ঈদের আগে আসছে নতুন নোট থাকছে না কোনো ব্যক্তির ছবি —গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার আগে নতুন তিন ধরনের টাকার নোট বাজারে ছাড়া হবে। তবে এসব নোটে কোনো ব্যক্তির ছবি থাকছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার আগে নতুন তিন ধরনের টাকার নোট বাজারে ছাড়া হবে। তবে এসব নোটে কোনো ব্যক্তির ছবি থাকছে না। এর পরিবর্তে থাকবে প্রাকৃতিক দৃশ্য বা স্থাপনার ছবি।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ভবনে আয়োজিত ‘ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমাদের টাকা ছাপানো শুরু হয়ে গেছে। তিনটি নোট শিগগিরই বাজারে আসছে। এগুলো হচ্ছে ২০, ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট। ঈদের আগেই এসব নোট আপনারা দেখতে পাবেন। নতুন নোটে কোনো ব্যক্তির ছবি থাকবে না। এখানে আমাদের প্রাকৃতিক দৃশ্য, আমাদের কিছু ঐতিহ্যবাহী ভবন, প্রাণী প্রভৃতির ছবি থাকবে।’

টাকায় মসজিদ-মন্দির-প্যাগোডার মতো ধর্মীয় স্থাপনার ছবি থাকবে কিনা তা জানতে চান এক সাংবাদিক। এ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেসব স্থাপনা রয়েছে সেগুলো থাকবে। সেটা মসজিদই হোক বা মন্দিরই হোক, সেখানে আমরা কোনো পার্থক্য দেখছি না।’

গভর্নর বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া সম্পদ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ফ্রিজ করছে। এতে বিচার প্রক্রিয়া সহজ হবে। কারণ পাচারের প্রমাণগুলো আর নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। সম্পদের উৎস অনুসন্ধান সহজ হবে। বিচারের পর তা ফেরত আনা সম্ভব হবে।’

গভর্নর বলেন, ‘চুরি করা অর্থ ফেরত নিয়ে আসা আমাদের পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট। সব সরকারেরই এটা পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট থাকা উচিত। এটারই অংশ হিসেবে আমরা এখন দেখছি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও কিন্তু একটা চাপের মধ্যে আছে।’

যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে সেসব দেশ কতটা সহায়তা করছে এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘ব্রিটিশ এমপিরা এখানে সহযোগিতা করছেন। ব্রিটিশ প্রেসের বাইরে এনজিও যারা আছে, তারাও এটাকে সাপোর্ট করছে। ফলে আমি মনে করি যে একটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটা খুবই এনকারেজিং। এটা সামনের দিকে আরো বেগবান করতে হবে। এছাড়া অন্য দেশগুলোতেও আমরা কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছি। সেসব জায়গা থেকেও সাড়া পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আরো বেশকিছু দেশে এ ধরনের সম্পদ রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমি দুবাই গিয়েছিলাম গত সপ্তাহে। প্ল্যান করছি সিঙ্গাপুরে যাব। লন্ডনে যাওয়ারও প্ল্যান আছে। আবার আমাদের ইন্টারন্যাশনাল একটা কনফারেন্স করারও প্ল্যান আছে।’

অর্থ ফেরত আসতে কতদিন লাগতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘এটা আসার সাথে সম্পর্কিত নয়। আসবে বিচারের পরে। কিন্তু এখন যেটা হচ্ছে যে তারা এ সম্পদগুলো বিক্রি করতে পারবে না, আইনি প্রক্রিয়া যতদিন না শেষ হয়। কাজেই আমরা লিগ্যাল প্রসেসটা শুরু করব। কিন্তু সেটা (সম্পদ) যদি তারা বিক্রি করে চলে যায়, তাহলে তো লিগ্যাল প্রসেস শুরু করে আমাদের লাভ হবে না।’

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও বাংলাদেশে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিয়ং।

আরও